কাঁঠাল এর গুণাগুণ/ Attributes of Jackfruit

কাঁঠাল এক প্রকারের হলুদ রঙের সুমিষ্ট গ্রীষ্মকালীন ফল। বাংলাদেশের সর্বত্র কাঁঠাল গাছ দেখতে পাওয়া যায়। কাঁচা কাঁঠালকে বলা হয় এঁচোড় যা বাঙালি সমাজে গাছপাঁঠা নামেও সমধিক পরিচিত। কাঁঠাল গাছের কাঠ আসবাবপত্র তৈরীর জন্য অনেক জনপ্রিয়। কাঁঠাল পাতা বিভিন্ন প্রাণীর পছন্দের খাদ্য। তুলনামূলকভাবে বিশালাকার এই ফলের বহির্ভাগ পুরু এবং কান্টকাকীর্ণ, অন্যদিকে অন্তরভাগে একটি কাণ্ড ঘিরে থাকে অসংখ্য রসালো কোয়া/কোষ। কাঁঠালের বৃহদাকার বীজ কোয়া/কোষের অভ্যন্তর ভাগে অবস্থিত।

চলুন আজকে জেনে নেই কাঁঠাল এর উপকার ও ক্ষতির দিক গুলোঃ

 

কাঁঠালের উপকারিতা:

পটাশিয়ামের উৎস: কাঁঠাল বিভিন্ন খনিজ উপাদানে ভরপুর। তাই, কাঁঠাল পটাশিয়ামের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩০৩ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এজন্য কাঁঠালে উচ্চ রক্তচাপ উপশম হয়।

ফ্যাট কম: কাঁঠালে ক্ষতিকারক ফ্যাটের পরিমাণ কম তাই কাঁঠাল খেলে ওজন বাড়ার খুব একটা আশঙ্কা থাকে না।

নার্ভ এন্ড ডাইজেস্ট: টেনশন, নার্ভাসনেস এবং বদ হজম কমাতে সাহায্য করে কাঁঠাল।

হাড়: কাঁঠালে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে এবং শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য: কাঁঠাল একটি আঁশযুক্ত খাবার। এই আঁশ যা ফাইবার নামে পরিচিত তাতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

রক্তস্বল্পতা: কাঁঠালে রয়েছে খনিজ উপাদান আয়রন যা দেহের রক্তস্বল্পতা দূর করে।

শিশু খাদ্য হিসেবে: ছয়মাস বয়সের পর থেকে ডাক্তারের পরামর্শ মতে মায়ের দুধের পাশাপাশি কাঁঠালের রস খাওয়ানো যেতে পারে। যা একটি শিশুর বিভিন্ন খাদ্য চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি ক্ষুধা নিরাময় করে।

গর্ভবতী এবং নতুন মায়ের জন্য উৎকৃষ্ট উপকারি খাদ্য: গর্ভবতী মহিলারা কাঁঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থসন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। চিকিৎসকদের মতে প্রতিদিন ২০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী মহিলা ও তার গর্ভে ধারণকৃত শিশুর সব ধরনের পুষ্টি চাহিদা দূর হয়। এছাড়া দুগ্ধদানকারী মা প্রতিদিন পাকা কাঁঠাল খেলে তার দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

কাঁঠালের পুষ্টিগুণঃ

ভিটামিন-সি এবং ভিটামিন-এ: ভিটামিন-সি মানব দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চুল, দাঁত ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এই ভিটামিন-সি রয়েছে কাঁঠালে। এতে থাকা ভিটামিন-এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস: কাঁঠালে থাকা ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস আলসার, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ এবং বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়তা করে।

এন্টি অক্সিডেন্ট: মানবদেহ বুড়িয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী হচ্ছে ফ্রি-রেডিক্যালস আর কাঁঠালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট ফ্রি-রেডিক্যালস থেকে আমাদের দেহকে রক্ষা করে। এছাড়াও আমাদের শরীরে সর্দি-কাশি রোগ সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা এই এন্টিঅক্সিডেন্ট এর কাজ।

ম্যাঙ্গানিজ: কাঁঠালে থাকে প্রচুর পরিমাণে খনিজ উপাদান এবং ম্যাঙ্গানিজ, যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ভিটামিন-বি: কাঁঠালে থাকা ভিটামিন-বি৬ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

 

কাঁঠালের ওষুধিগুণ:

কাঁঠালে রয়েছে বিভিন্ন ওষুধি গুনাগুন, কাঁঠাল গাছের শিকড় বিভিন্ন রোগের নিরাময় প্রতিষেধক এবং উপশমকারী।

* কাঁঠালের শেকড় হাঁপানি নিরাময় করতে সাহায্য করে। যাদের হাঁপানি সমস্যা রয়েছে তারা কাঁঠালের শেকড় সিদ্ধ করে তার পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করলে তা তাদের রোগ এর প্রকোপ কমাতে সহায়তা করে।

* কাঁঠালের শেকড় চর্ম রোগের সমস্যার সমাধান ও খুবই কার্যকরী।

* এছাড়া জ্বর এবং ডায়রিয়া নিরাময় ও কাঁঠালের শেকড় খুব ভালো উপকার করে।

কাঁঠালের অপকারিতা:

কাঁঠালের এত এত উপকারিতার মাঝেও তা খেতে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণ আমিষ থাকায় কাঁঠাল একটি গুরুপাক ফল। মানে আমিষের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি হজম হতে সময় বেশি নেয়। অধিক পরিমাণে কাঁঠাল খেলে তা বদহজম হতে পারে। এছাড়া ডায়াবেটিক আক্রান্ত রোগীদের কাঁঠাল খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা উচিৎ।